স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নতুন নির্দেশিকা জারি! উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (West Bengal Council of Higher Secondary Education – WBCHSE) স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া এই নির্দেশে রাজ্যের স্বীকৃত উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের উপর নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হল বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি করা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা।

কেন এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে?
বর্তমানে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মনোযোগ এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশে প্রভাব ফেলছে। এই বিষয়টি বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে।
কী বলা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়?
১. স্কুলে মোবাইল ফোন না আনাই শ্রেয়
শিক্ষার্থীদের স্কুল চলাকালীন সময়ে মোবাইল ফোন না আনার এবং ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, পরীক্ষা, প্রার্থনা সভা এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পূর্বানুমতি থাকলে ব্যতিক্রম হতে পারে।
২. বিশেষ প্রয়োজনে মোবাইল আনলে কী করতে হবে?
যদি দীর্ঘ দূরত্ব থেকে যাতায়াত, স্বাস্থ্যগত জরুরি প্রয়োজন বা অন্য কোনও প্রকৃত কারণের জন্য মোবাইল ফোন আনতেই হয়, তাহলে—
- মোবাইল সুইচ অফ অথবা সাইলেন্ট মোডে রাখতে হবে।
- বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
৩. বিদ্যালয় নিজস্ব নিয়ম তৈরি করতে পারবে
প্রতিটি বিদ্যালয় তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ফোন নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা বা নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবে।
৪. শিক্ষকদের ভূমিকা
শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইসের দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৫. অভিভাবকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে
বিদ্যালয়গুলিকে অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে বলা হয়েছে। অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তারা অপ্রয়োজনীয়ভাবে সন্তানদের স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে উৎসাহিত না করেন।
কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা সরাসরি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
৬. সচেতনতামূলক কর্মসূচির উপর জোর
বিদ্যালয়গুলিকে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সেখানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে—
- ডিজিটাল সুস্থতা (Digital Well-being)
- সাইবার নিরাপত্তা (Cyber Safety)
- প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার
- পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা
এই নির্দেশ কি সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা?
না। এই নির্দেশিকায় মোবাইল ফোন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এড়াতে হবে এবং বিশেষ প্রয়োজনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মোবাইল বহন করা যেতে পারে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মোবাইল থেকে দূরে রাখা নয়, বরং বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে এই নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।