|
Getting your Trinity Audio player ready...
|

স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ভারতে বসবাসযোগ্য ১৩টি সুন্দর শহর
লেখা: রিয়া গুপ্তা | প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
(আমাদের ওয়েবসাইটের জন্য বাংলা সংস্করণ)
ভারতের শহরগুলো শুধু বসবাসের জায়গা নয়—এগুলো ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের এক গভীর সংলাপ। রাজপ্রাসাদ-ঘেরা লেক সিটি থেকে শুরু করে আধুনিক পরিকল্পিত রাজধানী, উপনিবেশিক বন্দর শহর কিংবা সাহসী আধুনিক স্থাপত্য পরীক্ষাগার—প্রতিটি শহরই নিজস্ব গল্প বলে। নীচে এমনই ১৩টি শহরের কথা বলা হলো, যেগুলোতে স্থাপত্যের সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য একসাথে ধরা দেয়।
১. Chandigarh: লে করবুজিয়ের আধুনিক স্বপ্ননগরী
ভারতের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী আধুনিক নগর পরিকল্পনার উদাহরণ চণ্ডীগড়। দেশভাগের পরে জাতীয় আশাবাদের প্রতীক হিসেবে গড়ে ওঠা এই শহরটি পরিকল্পনা করেছিলেন বিখ্যাত স্থপতি লে করবুজিয়ে। গ্রিড প্যাটার্নে সাজানো সেক্টর, প্রশস্ত রাস্তা, সবুজ প্রান্তর ও কংক্রিটের ভাস্কর্যসম স্থাপত্য—সব মিলিয়ে এটি এক অনন্য আধুনিক শহর।


২. Delhi: সাত শহরের মুঘল ও ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার
দিল্লি একক শহর নয়, বরং বিভিন্ন যুগের সাতটি শহরের স্তরীকৃত ইতিহাস। মেহরৌলি থেকে হুমায়ুনের সমাধি, ইন্ডিয়া গেট থেকে লুটিয়েন্স দিল্লি—প্রতিটি কোণেই ইতিহাসের ছাপ। মধ্যযুগীয় স্থাপত্য, ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ভারতের অবকাঠামো এখানে সহাবস্থান করে।
৩. Lucknow: নবাবি শান ও শৈল্পিক সৌন্দর্য

লখনউ মানেই নাজুক অলংকরণ, ভারসাম্যপূর্ণ নকশা ও শালীন রুচি। বারা ইমামবাড়া, রুমি দরওয়াজা কিংবা প্রাচীন হাভেলিগুলোয় পার্সি, তুর্কি ও ইউরোপীয় প্রভাবের মিশ্রণ দেখা যায়। এখানকার স্থাপত্য যেন এক জীবন্ত কাব্য।

৪. Shillong: পাহাড়ি প্রকৃতি ও আদিবাসী নকশার মেলবন্ধন
খাসি পাহাড়ে অবস্থিত শিলংয়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা ও স্থানীয় খাসি স্থাপত্য একসাথে মিশেছে। কাঠের কটেজ, পাথরের গির্জা ও কুয়াশাচ্ছন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য শহরটিকে দেয় অনন্য নান্দনিকতা।
৫. Kolkata: ঔপনিবেশিক গরিমা ও সাংস্কৃতিক গল্পকথা
কলকাতার সৌন্দর্য তার পুরনো বাড়ি, রাজবাড়ি, ক্যাফে ও ঘাটে লুকিয়ে। একসময় ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হওয়ায় এখানে গথিক, নব্য-ধ্রুপদী স্থাপত্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার রয়েছে। সময়ের ছাপ ধরা এই শহর আজও শিল্প-সাহিত্যের প্রাণকেন্দ্র।
৬. Udaipur: লেক আর রাজপ্রাসাদের রোমান্টিক শহর
উদয়পুরে প্রাসাদ যেন জলের বুক থেকে উঠে এসেছে। লেক পিচোলা, সিটি প্যালেস, মার্বেলের প্যাভিলিয়ন—সব মিলিয়ে এটি ভারতের সবচেয়ে কাব্যিক শহরগুলোর একটি।
৭. Jaipur: পরিকল্পিত নগর ও গোলাপি ঐতিহ্য
১৭২৭ সালে পরিকল্পিত জয়পুর ভারতের প্রথম গ্রিড-নগর। হাওয়া মহল, সিটি প্যালেস ও জন্তর মন্তরের মতো স্থাপত্য নিদর্শন আজও শহরের পরিচয় বহন করে। আধুনিক ডিজাইনও এখানে ঐতিহ্যের সাথে মিশে গেছে।
৮. Jodhpur: নীল বাড়ির শহর ও বিশাল দুর্গ
মেহরানগড় দুর্গের পাদদেশে ছড়িয়ে থাকা নীল রঙের ঘরবাড়ি যোধপুরকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। সংকীর্ণ গলি, প্রাচীন কুয়ো ও বালুকাপাথরের স্থাপত্য এখানে অতীতকে জীবন্ত রাখে।
৯. Ahmedabad: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংলাপ
আহমেদাবাদের ‘পোল’ বসতি, কাঠখোদাই করা বাড়ি ও আদলজ স্টেপওয়েল যেমন ঐতিহ্যবাহী, তেমনি লে করবুজিয়ে ও লুই কান-এর আধুনিক স্থাপত্যও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
১০. Mumbai: বহুতল আধুনিকতা ও ইতিহাসের সহাবস্থান
ভিক্টোরিয়ান গথিক থেকে আর্ট ডেকো, মিল রিডেভেলপমেন্ট থেকে আকাশচুম্বী টাওয়ার—মুম্বাই এক চলমান স্থাপত্য প্রদর্শনী। সমুদ্রতীরের মেরিন ড্রাইভ শহরের আইকনিক পরিচয়।
১১. Mysuru: রাজকীয় পরিকল্পনা ও বাগান নগরী
ওয়াডিয়ার রাজাদের পরিকল্পনায় গড়া মাইসুরু প্রশস্ত রাস্তা, উদ্যান ও ইন্দো-সারাসেনিক প্রাসাদের জন্য বিখ্যাত। মাইসোর প্যালেস শহরের কেন্দ্রবিন্দু।
১২. Kochi: উপকূলীয় ঐতিহ্য ও লোকজ নকশা
পর্তুগিজ, ডাচ ও ব্রিটিশ প্রভাব মিশে কোচির স্থাপত্য গড়ে উঠেছে। ঢালু ছাদ, ভেরান্ডা, কাঠের কাজ ও চীনা মাছ ধরার জাল শহরটিকে আলাদা পরিচয় দেয়।
১৩. Puducherry: ফরাসি-তামিল দ্বৈত নগর
পুদুচেরির ফরাসি কোয়ার্টারের সুশৃঙ্খল রাস্তাঘাট আর তামিল কোয়ার্টারের ঐতিহ্যবাহী বসতি—দুটি ভিন্ন স্থাপত্য ভাষা এক শহরে সহাবস্থান করে।
✨ উপসংহার
এই ১৩টি শহর প্রমাণ করে যে ভারত শুধু বৈচিত্র্যের দেশ নয়, বরং স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক বিশাল জীবন্ত জাদুঘর। বসবাস হোক বা ভ্রমণ—এই শহরগুলো প্রতিদিন নতুন করে গল্প বলে।
👉 আরও এমন ভ্রমণ, স্থাপত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক লেখা পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।