“What if we raid BJP office?”—ED হানার পর বড়সড় চ্যালেঞ্জ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Getting your Trinity Audio player ready...


“What if we raid BJP office?”—ED হানার পর বড়সড় চ্যালেঞ্জ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা | কলকাতা
আপডেট: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১৪ PM IST

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)–এর হানার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে একযোগে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)–এর অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ED তল্লাশি চালানোর ঘটনাকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার কলকাতায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাটকীয়ভাবে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পৌঁছে যান আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে, যেখানে তখন ED-এর অভিযান চলছিল। বিজেপি এই ঘটনাকে “কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ” বলে কটাক্ষ করেছে।

“গণতান্ত্রিকভাবে হারান, এজেন্সি দিয়ে নয়”—মমতা

ED অভিযানের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে বলেন,

“কর্তে লুট, বলতে মিথ্যে। আপনারা (বিজেপি) যদি আমাদের সঙ্গে লড়তে না পারেন, তাহলে বাংলায় কেন আসছেন? গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের হারান। এজেন্সি দিয়ে আমাদের কাগজ, আমাদের স্ট্র্যাটেজি, আমাদের ভোটার, আমাদের ডেটা—সব লুট করছেন। এভাবে চললে বাংলায় আপনাদের আসন সংখ্যা শূন্যে নেমে যাবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি—আপনি আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করুন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়ার নামে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

READ MORE  Ministry of Women and Child Development offers internship for women students, scholars, teachers: How to apply

“আমরাও যদি BJP অফিসে হানা দিই?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন,

“আমরা যদি বিজেপি পার্টি অফিসে হানা দিই, তাহলে কী হবে? একদিকে ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে, অন্যদিকে আমার দলের সব তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে।”

তিনি জানান, তৃণমূল সরকার এখনও সংযম দেখাচ্ছে, কিন্তু পরিস্থিতি একই থাকলে রাজ্য চুপ করে থাকবে না।

ED কী বলছে?

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে ED এক বিবৃতিতে জানায়, এই তল্লাশি প্রমাণের ভিত্তিতে করা হচ্ছে এবং কোনও রাজনৈতিক দলকে নিশানা করা হয়নি।

ED-এর বক্তব্য অনুযায়ী,

  • সারা দেশে মোট ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চলছে
  • এর মধ্যে ১০টি জায়গা সক্রিয়ভাবে তল্লাশির আওতায় (৬টি পশ্চিমবঙ্গে, ৪টি দিল্লিতে)
  • এই তদন্তের যোগ রয়েছে অবৈধ কয়লা পাচার ও মানি লন্ডারিং মামলার সঙ্গে
  • কোনও রাজনৈতিক দলের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়নি
  • এই অভিযান নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নয়
READ MORE  ⭐ পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন TET পরিচালনার সরকারি অনুমোদন ⭐

তবে ED অভিযোগ করেছে যে,

“কিছু সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তি বেআইনিভাবে তদন্তাধীন জায়গায় ঢুকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি ছিনিয়ে নিয়েছেন।”

বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর আচরণকে “অসাংবিধানিক” বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন,

“মুখ্যমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনারের এইভাবে ED অভিযানে হস্তক্ষেপ করা অনৈতিক ও অসাংবিধানিক। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, আইন অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কে এই প্রতীক জৈন?

প্রতীক জৈন হলেন রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা Indian Political Action Committee (I-PAC)–এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের IT সেল প্রধান হিসেবেও কাজ করছেন।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে I-PAC তৃণমূল কংগ্রেস ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

READ MORE  IB Security Assistant Recruitment Apply Online 2025 Ends Tomorrow – 4987 Posts Available, Register Online - More Details Here - Jagran Josh

রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক

এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে কেন্দ্র বনাম রাজ্যের সংঘাত তীব্র হয়েছে। একদিকে তৃণমূল অভিযোগ করছে কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার হচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি বলছে, দুর্নীতির তদন্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত করে তুলবে এবং আগামী দিনে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আরও বাড়তে পারে।


Leave a Reply

You cannot copy content of this page

Scroll to Top