|
Getting your Trinity Audio player ready...
|
✊ এসএসসি এসএলএসটি ফ্রেশারস আন্দোলন ২০২৫: ইন্টারভিউর আগে অভিজ্ঞতার নাম্বার নিয়ে বিতর্ক
🔎 ভূমিকা
দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে WBSSC SLST (West Bengal School Service Commission – State Level Selection Test) এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু নতুন গেজেট ও শিডিউল অনুযায়ী একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে—ইন্টারভিউ কল পাওয়ার আগেই অভিজ্ঞতার (Experience) ১০ নাম্বার যোগ করা হবে।
এতে করে ফ্রেশার প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন বলে দাবি উঠছে। অনেক ছাত্রছাত্রী ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ শুরু করেছেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে কলকাতার রাস্তায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
📌 মূল সমস্যা কী?
- গেজেটের ২ নম্বর পাতায় স্পষ্ট বলা আছে – ইন্টারভিউর আগে কোনোভাবেই অভিজ্ঞতার নাম্বার যোগ হবে না।
- কিন্তু ১১ নম্বর পাতার শিডিউলে আবার বলা হয়েছে – ইন্টারভিউ ডাকার আগেই অভিজ্ঞতার ১০ নাম্বার যোগ করা হবে।
- এই দ্বন্দ্বপূর্ণ নিয়মে ফ্রেশারদের অনেকেই ইন্টারভিউ কল পাওয়ার আগেই বাদ পড়ে যাবেন।
- অতীতে (যেমন ২০১৩ সালের পরীক্ষায়) অভিজ্ঞতার নাম্বার ইন্টারভিউর পরে যোগ করা হয়েছিল, আগে নয়।
🎓 কেন ফ্রেশাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ০.৫ নাম্বার-এর জন্য হাজার হাজার প্রার্থী পিছিয়ে যান। সেখানে সরাসরি ১০ নাম্বার অভিজ্ঞ প্রার্থীদের দেয়া মানে ফ্রেশারদের সুযোগ প্রায় শেষ।
- অভিযোগ উঠছে, অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট অবৈধভাবে/অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে জোগাড় করা হয়েছে।
- এর ফলে নতুন প্রজন্ম যারা বহু বছর ধরে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা চাকরির সুযোগ হারাবেন।
📢 আন্দোলনের প্রধান দাবি
- ভ্যাকেন্সি (শূন্যপদ) বাড়াতে হবে।
- ইন্টারভিউ কল পাওয়ার আগে অভিজ্ঞতার নাম্বার যোগ করা যাবে না।
- ইন্টারভিউর পরে যোগ করা হোক, কিন্তু কাট-অফ তৈরির সময় নয়।
⚖️ সম্ভাব্য আইনি জটিলতা
- এই নিয়ম নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি প্রশ্ন উঠেছে।
- ছাত্রছাত্রীদের একাংশ আবারো আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- যদি আবার কেস হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে যেতে পারে।
🗓️ আন্দোলনের দিন
- তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
- স্থান: কলকাতা (শিয়ালদা সহ একাধিক কেন্দ্র থেকে মিছিল ডাকা হয়েছে)
- উদ্দেশ্য: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফ্রেশারদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা
🔍 শিক্ষাব্যবস্থার বৃহত্তর সংকট
- গত ১০ বছর প্রায় কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি।
- সরকারি বাংলা মিডিয়াম স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
- এর ফলে শিক্ষার মান ক্রমশ নিচে নামছে, ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।
- শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্নীতি ও জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে।
✅ উপসংহার
এই আন্দোলন শুধুমাত্র ফ্রেশার প্রার্থীদের চাকরির সুযোগের প্রশ্ন নয়, বরং পুরো বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এর সঙ্গে যুক্ত।
👉 আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি –
- ভ্যাকেন্সি বাড়ানো হোক।
- ইন্টারভিউর আগে নয়, শুধুমাত্র ইন্টারভিউ শেষে অভিজ্ঞতার নাম্বার যোগ করা হোক।
শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা এলে তবেই আগামী প্রজন্মের জন্য প্রকৃত অর্থে “সোনার বাংলা” গড়ে তোলা সম্ভব।