কৃষ্ণনগরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সত্যিই ভয়ঙ্কর এবং মর্মান্তিক 💔। সোমবার দুপুরে এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইশিতা মল্লিক (বয়স ১৯ বছর)-কে তাঁরই বাড়িতে ঢুকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেছে এক যুবক। ঘটনাস্থল মানিকপাড়া, কৃষ্ণনগরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে—পুলিশ সুপারের অফিসের কাছেই। 🕯️
👩👩👦 পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন ইশিতার মা ও ভাই। আচমকা গুলির শব্দ পেয়ে ছুটে এসে মা দেখেন, এক যুবক বন্দুক হাতে বেরিয়ে যাচ্ছে। পরে ঘরে ঢুকে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
🚨 পুলিশ জানিয়েছে, ইশিতার শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমঘটিত কারণে হত্যাকাণ্ড। ইশিতার সঙ্গে দেবরাজ সিং নামে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার এক যুবকের সম্পর্ক ছিল। ইশিতা সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন। সেই ক্ষোভেই অভিযুক্ত এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের অনুমান।
📍 ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক পলাতক। পুলিশ নাকা তল্লাশি চালাচ্ছে এবং আশেপাশের থানাগুলোকে সতর্ক করেছে। আততায়ীকে ধরতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।
👉 এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকা ও সমাজকে শিউরে তোলে। সম্পর্কের টানাপোড়েন যদি খুনে গিয়ে মেশে, তবে তা সভ্য সমাজের জন্য বড়ই অশনি সংকেত।

কৃষ্ণনগরে দিনের আলোয় খুন, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
কৃষ্ণনগর: দিনের বেলা, শহরের প্রাণকেন্দ্রে, পুলিশ সুপারের অফিস থেকে একেবারে হাতেগোনা কয়েক মিনিটের দূরত্বে এভাবে প্রকাশ্যে খুন! কৃষ্ণনগরের মানুষ যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। সোমবার দুপুরে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইশিতা মল্লিক (১৯ বছর)-কে গুলি করে খুন করে এক যুবক। পরিবারের সামনে, নিজের বাড়িতেই খুন হয় ইশিতা। এই ঘটনার পর শহরের মানুষ আতঙ্কে, হতবাক এবং ক্ষুব্ধ।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
সোমবার দুপুরে বাড়িতে ছিলেন ইশিতা, তাঁর মা ও ভাই। আচমকা এক যুবক ঢুকে পড়ে। কোনো কথা না বলেই সে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ইশিতা। মা ছুটে আসতেই দেখেন রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেয়ে। আততায়ী বন্দুক হাতে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে।
ইশিতাকে দ্রুত কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান
- ইশিতার শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন।
- খুনের পেছনে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন।
- অভিযুক্ত যুবক দেবরাজ সিং, কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা। ইশিতার সঙ্গে সম্পর্কে ছিল, কিন্তু মেয়েটি সম্পর্ক ছাড়তে চাইছিল।
- সেই রাগেই খুন করা হয়েছে বলে অনুমান।
- যুবক বর্তমানে পলাতক।
কৃষ্ণনগরের মানুষ কী বলছেন?
এই খুনের ঘটনায় শহরে চরম ক্ষোভ। মানুষ বলছেন—
- পুলিশ সুপারের দফতর যখন একেবারে কাছেই, তখন এভাবে দিনের বেলায় খুন কীভাবে সম্ভব?
- শহরের ভিড়, বাজার, অফিসপাড়া সবকিছুর মধ্যে এভাবে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ানো কি স্বাভাবিক?
- কৃষ্ণনগর ক্রমেই অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে, এর দায় কার?
এখনকার দিনের অবস্থা
কৃষ্ণনগর শুধু ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর শিক্ষার শহর নয়, এখন এই শহরকে ঘিরে বারবার খবর আসছে—
- মাদক সমস্যা: ছোট থেকে বড়, বিভিন্ন এলাকায় গোপনে মাদকের কারবার চলছে।
- অপরাধের সংখ্যা: ছিনতাই, চুরি, মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন।
- অস্ত্রের সহজলভ্যতা: সাধারণ ছেলেমেয়েরা অবলীলায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে।
- সম্পর্কের জটিলতা থেকে সহিংসতা: প্রেমঘটিত কারণে খুন, আত্মহত্যা—এগুলো বেড়ে যাচ্ছে।
মানুষ বলছেন—”আগে কৃষ্ণনগরকে শান্ত শহর বলা হত, এখন রাস্তায় বেরোতে ভয় লাগে। কার হাতে অস্ত্র আছে, কে কাকে আঘাত করবে—কেউ জানে না।”
সমাজের প্রতিচ্ছবি
এই ঘটনাটা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, সমগ্র সমাজের অসুস্থতার প্রতিফলন।
- সম্পর্কের টানাপোড়েন মানেই এখন খুন-আত্মহত্যা।
- যুব সমাজ হতাশা, আসক্তি আর অস্থিরতায় ভুগছে।
- পরিবার, স্কুল, সমাজ—সবখানেই যেন নিয়ন্ত্রণ শিথিল।
শেষ কথা
ইশিতা মল্লিকের মৃত্যু শুধু একটি খুন নয়, এটি এক বড় সামাজিক প্রশ্নচিহ্ন।
কৃষ্ণনগরের মতো জায়গায় যদি দিনের বেলা মেয়েরা নিজের বাড়িতেই নিরাপদ না থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ?
শহর জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—
👉 অভিযুক্তকে ধরা হবে তো? আর কৃষ্ণনগরের মানুষ কি সত্যিই নিরাপদ?
