কলকাতা হাই কোর্টের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, রাজ্যের ভূমিকার কড়া সমালোচনা
কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। প্রধান বিচারপতি (পিজে) রাজ্যের কার্যপ্রণালীর কঠোর সমালোচনা করে মন্তব্য করেন, “চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ কখনো নিয়ম হতে পারে না, এটা শুধু ব্যতিক্রম।” তিনি আরও বলেন, “সব সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে। এভাবে নিয়োগ বন্ধ করে রাখতে পারে না রাজ্য।” প্রধান বিচারপতির আক্ষেপ, “দেশের আর কোথাও এমন হয় না।”

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিভাগে, যেমন পুলিশ এবং পুরসভা, দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ চলছে। সম্প্রতি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আদালতের কর্মী নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়, এবং সেই মামলার শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি রাজ্যে সর্বত্র চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে তাঁর উষ্মা প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, “সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে পুরসভা পর্যন্ত, সর্বত্র চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। গোটা দেশে এমনটা কোথাও হয় না। রাজ্যের কর্মশক্তির বেশিরভাগটাই এখন চুক্তিভিত্তিক।” প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ কখনোই নিয়ম হতে পারে না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলো ব্যতিক্রম।”
প্রধান বিচারপতি এরপর রাজ্যের উদ্দেশ্যে একাধিক কঠিন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “যদি সবাই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকে, তাহলে সঠিক বা ভুল কাজের দায় কে নেবে? একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন অথচ অবসরের সময়কালীন বেতন মাত্র ২৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা—এটা কেন হবে?” আরও এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “একজন কর্মী সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত কাজ করছেন, কিন্তু বেতন মাত্র ১৪ হাজার টাকা! এটা কীভাবে সম্ভব?”
এই সমস্ত প্রশ্ন ও মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি যে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তা স্পষ্ট হয়েছে। রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নীতি নিয়ে এই তীব্র সমালোচনা রাজ্য প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।